একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়নভিত্তিক একটি সাহসী বাজেট প্রণয়নের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল ডেনিম এক্সপোর ২০তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। এ সময় তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের দিকে এমন একটি দেশ হিসেবে তাকিয়ে আছে, যা তার অর্থনৈতিক যাত্রার নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এখন চ্যালেঞ্জ হলো মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, উচ্চমানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের জন্য কার্যকর প্রস্তুতি নেয়া।’
স্বচ্ছতা, নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিকাঠামোই বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ভিত্তি হতে পারে বলেও জানান তিনি।
আগামী বাজেট প্রসঙ্গে মাইকেল মিলার বলেন, ‘সঠিক নীতি ও প্রণোদনা বাস্তবায়ন করা গেলে বাজারের বিকৃতি কমবে, রাজস্ব আহরণ বাড়বে, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ত্বরান্বিত হবে এবং সরকারি ব্যয়ের মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।’
বাংলাদেশ-ইইউ অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আবেদন বর্তমানে মূল্যায়নাধীন রয়েছে।’
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিতব্য আগামী গ্লোবাল গেটওয়ে সামিটে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বৈশ্বিক ডেনিম বাণিজ্যে বাংলাদেশের অর্জনের কথা তুলে ধরে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় বাজারেই ডেনিম রফতানিতে চীনের চেয়ে এগিয়ে এবং শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এ অর্জনের পেছনে বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এলডিসি উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে। এ বিষয়ে বিজিএমইএর অবস্থান স্পষ্ট—উত্তরণের পর বর্তমানে যে বাণিজ্যিক সুবিধাগুলো আমরা পাচ্ছি, তা পরিবর্তিত হবে। আমরা যদি প্রস্তুত না থাকি, তবে শিল্প খাত এর প্রভাব অনুভব করবে। তবে এর আগেও আমরা নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছি এবং সামনে এগিয়ে গেছি। এবারো পারব।’
এলডিসি উত্তরণ, মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের মতো চ্যালেঞ্জগুলো কোনো একক পক্ষের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এজন্য শুধু নিরীক্ষক হিসেবে নয়, ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের আমাদের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্যাসিফিক জিন্সের পরিচালক লুথমেলা ফারিদ, বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল, ইন্ডিটেক্সের বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান হাভিয়ের সান্তোনহা ওলসিনা এবং বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন। এক্সপোতে একটি বিশেষ ‘ট্রেন্ড জোন’ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ডেনিম শিল্পের সর্বশেষ উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ প্রবণতাগুলো তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া এক্সপোর প্রথম দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।